দুর্গা পুজো: আইটিসি আশীর্বাদ আটার নতুন ক্যাম্পেন  ‘আমার মা, আমার দুর্গা’

দুর্গা পুজো: আইটিসি আশীর্বাদ আটার নতুন ক্যাম্পেন ‘আমার মা, আমার দুর্গা’

কলকাতা: আশীর্বাদ আটা প্রতিবছর উৎসব উদযাপনের আবহে মানুষের উৎসাহকে বাড়িতে তুলতে নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়ে থাকে। আশীর্বাদ আটা, যা ঘরে ঘরে একটা পরিচিত নাম,  যার ব্র্যান্ড গৃহিণীদের কাছেও স্বীকার্য। আশীর্বাদ আটা ‘এটা আমার মা’ বলে এক প্রচারাভিযান আগেই শুরু করেছিল এবং যাতে মূলত নারীর বিভিন্ন রূপকে বিভিন্ন বৈচিত্রের মধ্যে দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে,  সেই ভাবনাকে আরও একটু পরিণত করে এই বছরের পুজোয় আনা হয়েছে এক নতুন রূপে। এই নয়া ক্যাম্পেনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আমার মা,  আমার দুর্গা’।

এই নবরূপের ভাবনার গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে প্রতিটি নারী-র মধ্যে লুকিয়ে থাকা এক অন্যন্য বৈশিষ্ট্যকে, যার রূপ অনেকটাই মা দুর্গার রূপের সঙ্গে মিলে যায়। আশীর্বাদ আটা এই ক্যাম্পেনে মা দুর্গার একটি ডিজিটাল মোজাইকের পিকটোরিয়াল আর্টের মধ্যে, যার দৈর্ঘ ও প্রসারতা যথাক্রমে ৮ ফুট X ১২ ফুট, তার মাধ্যমে বিভিন্ন নারীর বিভিন্ন চারিত্রিক বৈচিত্র্যগুলির মেলবন্ধন ঘটাবে।

আশীর্বাদ আটা অবশ্য আরও একটা উদ্যোগ নিতে চলেছে,  আর সেটা হল ভারতের সর্ববৃহৎ ডিজিটাল পিকচার মোজাইকে – মা দুর্গা – র ছবি তৈরি করে ইন্ডিয়ান বুক অফ রেকর্ডসে নাম তোলার। রিয়াল টাইমে ‘আমার মা,  আমার দুর্গা’–র এই ডিজিটাল মোজাইকের পিকটোরিয়াল আর্ট তৈরিতে মা’ দের থেকে শুরু করে মেয়ে এবং বিভিন্ন মহিলারাও অংশ নেবেন। এদের বাছাই করা হবে ফটো – বুথের মাধ্যমে। যারা বাগবাজার, সিংঙি পার্ক, দমদম পার্ক এবং বড়িশা ক্লাবে –  থাকা ফোটো-বুথের মাধ্যমে ছবি পাঠাবেন তারাই এই কর্মযজ্ঞে অংশ নিতে পারবেন।

বাড়ি থেকেও এই ক্যাম্পেনে অংশ নেওয়া যাবে। এর জন্য আশীর্বাদ আটার মাইক্রোসাইট (www.ashirvaadatta.com/durgapuja), গিয়ে ডি়জিটাল এন্ট্রির পদ্ধতি সম্পূর্ণ করতে হবে। এই ডিজিটাল ক্যাম্পেনে অন্তত ১৫,০০০ মানুষ অংশ নিতে চলেছেন এবং এই মেগা – ডিজিটাল অনুষ্ঠান এবারের পূজোয় বহু – আকাঙ্খিত এবং অনন্য প্যান্ডেল হপিং –এ র সেরা উদ্যোগ হতে চলেছে। যে সব বৃদ্ধ – বৃদ্ধা পুজোর উৎসব উদযাপনে পরিবার ও বন্ধুদের থেকে বিচ্ছিন্ন এবং সংক্রমণের আশঙ্কায় বাইরে বের হতে চাইছেন না, তাদের উৎসবকে আনন্দময় করে তুলতে আশীর্বাদ আটা দুটি ওল্ড – এজ হোমে,  বিধান আনন্দ আশ্রম এবং শান্তি নিলয় ওয়েলফেয়ার সোসাইটি তে, এনে দিচ্ছে পুজোর পরিবেশ। এই উদ্যোগে বাগবাজার সর্বজনীন থেকে অষ্টমী পুজোর অঞ্জলি এবং ধুনুচি নাচের লাইভ স্ট্রিমিং করা হবে,  বয়স্করা আরামে বসে উৎসবের এই আনন্দকে চাক্ষুষ এবং উপভোগ করার সুযোগ পাবেন। উৎসবের এই আনন্দে বাড়তি সংযোজন –  এই ওল্ডএজ হোমগুলোতে পুজোর ভোগের ব্যবস্থা করেছে আশীর্বাদ আটা।

আইটিসির মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, “বাঙালি নারীরা তাদের প্রতিনিয়ত জীবনে নানাভাবে তাদের চরিত্রের মধ্যে থাকা নারী রূপগুলিকে বিকশিত করে থাকে। যদি কোনও কিছু একবার করার সিদ্ধান্ত সে নেয়,  তাহলে যেনতেন প্রকারে তা বাস্তবায়িত করতে উৎসাহ নিয়ে লেগে পড়ে। বলতে গেলে সত্যিকারের তাদের চরিত্রের ভিতরে রয়েছে আধুনিক সময়ের এক এক জন দুর্গা। আমার মা,  আমার দুর্গা এই ভাবনার মধ্যে দিয়ে আশীর্বাদ আটা সত্যিকারে এই সব উৎসাহী,  সক্রিয় এবং বহুরূপবিশিষ্ট বাঙ্গালী গৃহিনীদের এক অনন্য সম্মান প্রদান করতে চায়।”

এই বছরও প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে থাকছে আশীর্বাদ অ্যাক্টিভিটি জোন। বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে স্টেজে শুধুমাত্র একজন ব্যক্তিকে রেখে অনুষ্ঠানগুলি পরিচালনা করা হবে। এর জন্য স্টেজের চারপাশকে যথাযথভাবে স্যানিটাইজ করা হবে যাতে অংশগ্রণকারীদের – কে সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করা যায়। ব্যক্তিবিশেষে সকলেই ঢাক বাজানো থেকে শুরু করে ধুনুচি নাচ, শ্লোক এবং মন্ত্র পাঠ – এর মতো ইভেন্টে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখার সুযোগ পাবেন এই স্টেজে। এই অনুষ্ঠানটি পুজো মণ্ডপে থাকা বড় স্ক্রিনে সরাসরি দেখানো হবে। এছাড়াও পুজো প্যান্ডেলে থাকছে মা দুর্গার তরঙ্গিত রূপ সহ ফোটো অপারচুনিটিজোন,  যেখানে দর্শনার্থীরা একটি মহিলার শক্তি এবং একাধিক কর্মদক্ষতার সাথে আধুনিক ধারণার একীকরণ করা মা দুর্গার বিভিন্ন ভঙ্গিমায় ছবি তোলার সুযোগ পাবেন। মানুষের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে আশীর্বাদ আটা ফোটো অপারচুনিটিজোন – কে নির্দিষ্ট আবাসিক পুজোর অ্যাসোসিয়েশনে স্থাপন করেছে,  যাতে মানুষ খুবই নিরাপদভাবে এবং সহজেই উৎসবে মেতে ওঠার সুযোগ পায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: